নেত্রকোণাবুধবার , ৪ নভেম্বর ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খুলনা
  5. খেলা
  6. চট্টগ্রাম
  7. জাতীয়
  8. ঢাকা
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. বরিশাল
  11. বিনোদন
  12. ময়মনসিংহ
  13. রংপুর
  14. রাজনীতি
  15. রাজশাহী
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৫৪ বছর বয়সে এসএসসি পাস করে আলী আকবরের চমক

প্রতিবেদক
admin
১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ন
Link Copied!

৫৪ বছর বয়সে এসে এসএসসি পাস করে চমক সৃষ্টি করেছেন আলী আকবর। তিনি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার বাসিন্দা।

চাকরির সুবাদে রাজশাহীতে থাকা অবস্থায় আলী আকবর নওহাটা সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি হাই স্কুলে ভর্তি হন। সেখান থেকেই এ বছর এসএসসি (কারিগরি) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৪.৩৫ পেয়ে পাস করেছেন।

আলী আকবর জানান, অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে তার জন্ম। ভাই-বোনদের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। সংসারের অভাব-অনটনের কারণে ছোটবেলায় লেখাপড়া ছেড়ে বাবার সঙ্গে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয় তাকে। পরবর্তীতে বিয়ে করেন। তার এক মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে।

সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতে গিয়ে যখন সংসারে আরো চাপ তৈরি হয়, তখন স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে কর্মচারী হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন তিনি। স্বামী-স্ত্রীর উপার্জনের অর্থ দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনা করান। তার বড় মেয়ে নার্স হিসেবে কর্মরত এবং ছেলে এমবিবিএস পাস করে সরকারি চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আলী আকবর বলেন, সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে নিজের পড়াশোনার ইচ্ছেটাকে এতদিন বিসর্জন দিয়েছিলাম। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা শেষ করিয়ে বিয়ে-শাদি দিয়েছি। এখন তারা নিজেদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত। জীবনের শেষ সময়ে এসে মনে হল, আমারও তো একটা স্বপ্ন ছিল। তাই আর বসে না থেকে আবার পড়াশোনা শুরু করি। আলহামদুলিল্লাহ, প্রথমবারেই এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করেছি।

বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পড়াশোনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। মনোবল, মনোযোগ ও পরিশ্রম থাকলে যেকোনো বয়সেই সফল হওয়া সম্ভব। অযথা মোবাইল গেম ও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় সময় নষ্ট না করে পড়াশোনায় মনোযোগী হলে ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।

আলী আকবরের ছেলে ডা. ইসমাইল হোসেন বলেন, বাবা প্রায়ই বলতেন, তাঁর পড়াশোনার খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু পারিবারিক অভাব-অনটন এবং আমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্বের কারণে তিনি নিজের স্বপ্নকে বিসর্জন দিয়েছিলেন। এখন আমি একজন ডাক্তার, আমার স্ত্রীও ডাক্তার, বড় বোন নার্সিং পেশায় আছেন এবং বোন জামাই শিক্ষকতা করেন।

তিনি আরো বলেন, বাবার সেই দীর্ঘদিনের শিক্ষিত হওয়ার ইচ্ছাকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। আমরা তাকে স্কুলে ভর্তি করাই। এবার তিনি এসএসসি পাস করেছেন। তাকে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি করানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আমার বাবার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।

Source link