তিনবার ফাইনালে উঠে তিনবারই তীরে এসে তরী ডুবেছিল। প্রতিবারই প্রতিপক্ষ ছিল জাফনা। এবার তাওহীদ হৃদয় ও সাকিব আল হাসানের জাফনাকে হারিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাল গল গ্যালান্টস। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) ষষ্ঠ আসরের ফাইনালে জাফনা কিংসকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দাসুন শানাকার দল।
শিরোপার জন্য গলের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ১২৪ রান। ২৫ বল হাতে রেখেই সেটি পেরিয়ে যায় তারা। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা অবশ্য স্বস্তির ছিল না গলের। মাত্র ১০ রানেই স্যাম হার্পার ও চারিথ আসালাঙ্কাকে হারায় তারা।
এরপর ম্যাচের মোড় ঘোরান টমাস রজার্স ও দিনুরা কালুপাহানা। তৃতীয় উইকেটে ৬৪ রানের জুটি গড়ে দলকে চাপমুক্ত করেন দুজন। জাফনার বোলাররা যখন জুটি ভাঙার পথ খুঁজছিলেন, তখনই বল হাতে হাজির সাকিব।
পাওয়ার প্লেতে এক ওভার করে মাত্র ৫ রান দেওয়া সাকিবকে নবম ওভারে আক্রমণে ফেরান জাফনা অধিনায়ক। আর সেই ওভারেই ম্যাচে নিজের ছাপ রাখেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। ওভারের প্রথম বলে রজার্সকে ফেরান তিনি, শেষ বলে বোল্ড করেন কালুপাহানাকে।
২৭ বলে ৩২ রান করা রজার্সকে স্লগ সুইপের ফাঁদে ফেলেন সাকিব। পরের বলে দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড করেন ১৯ বলে ৩১ রান করা কালুপাহানাকে। পরের ওভারেও মাত্র ২ রান দিয়ে নিজের বোলিং ফিগার নিয়ে যান ৩-০-৮-২-এ। শেষ পর্যন্ত ৪ ওভারে ১৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েই শেষ করেন তিনি।
তবে সাকিবের বোলিং নৈপুণ্য ম্যাচের ফল বদলাতে পারেনি। জয় থেকে ২১ রান দূরে থাকতে চামিকা কারুনারাত্নে ফিরলেও গলের পথ আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। অধিনায়ক শানাকা তখন দায়িত্ব নেন শেষটা টেনে নেওয়ার।
সাকিবের শেষ ওভারের প্রথম বলেই চার মেরে ম্যাচটাকে আরও সহজ করে দেন শানাকা। তাঁর ওই ওভার থেকে আসে ৭ রান। পরের ওভারে লিজাড উইলিয়ামকে টানা চার ও ছক্কা মেরে গলের জয় নিশ্চিত করেন অধিনায়ক। ৯ বলে ২০ রানে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন তিনি।
এর আগে জাফনার ইনিংসটাও কখনোই বড় হওয়ার মতো অবস্থায় ছিল না। শুরুতে আভিশকা ফার্নান্দো ও কামিল মিশারা ২৫ রান যোগ করলেও এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে চারবারের চ্যাম্পিয়নরা। মিশারার ৩২ বলে ৪১ রানই ছিল তাদের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।
গলের বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ের সামনে অধিনায়ক ভানুকা রাজাপাকসা, দুনিথ ওয়েলালাগে ও সাকিব—কেউই দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। শেষদিকে চামিন্দু উইক্রামাসিংহের ১৬ বলে ২৪ রানের ঝোড়ো ইনিংসে কোনোভাবে ১২৩ পর্যন্ত পৌঁছায় জাফনা। গলের হয়ে চারিথ আসালাঙ্কা ও ইশান মালিঙ্গা নেন ৩টি করে উইকেট।
ব্যাট হাতে জাফনার হয়ে বাংলাদেশের তাওহীদ হৃদয়ের রাতটাও ছিল বিবর্ণ। প্রথম কোয়ালিফায়ারে ঝড়ো ফিফটি করা এই ব্যাটার ফাইনালে ১০ বলে করেন ১০ রান। চার মেরে শুরু করলেও অষ্টম ওভারে সাচিন্দু কলম্বাগের বলে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
সাকিবও ব্যাট হাতে বড় কিছু করতে পারেননি। ১৩ বলে ৯ রান করলেও পরে বল হাতে দুই উইকেট নিয়ে দলের লড়াইটা ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।
তবে শেষ হাসি হাসল গল। তিনটি ফাইনালে হারের পর এবার জাফনার বিপক্ষেই প্রতিশোধের মঞ্চে নিজেদের প্রথম এলপিএল শিরোপা তুলে নিল তারা। আর জাফনা কিংস চারবারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এখনও টুর্নামেন্টের সফলতম দল থাকলেও এবার ট্রফিটা উঠল নতুন এক চ্যাম্পিয়নের হাতে।
