দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মাননা ‘KAOWL & CNPN Golden Pen Award’ পাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত কবি, কথাসাহিত্যিক, অনুবাদক ও শিল্প সমালোচক মুম রহমান। তিনি এই পুরস্কারের ১৮তম প্রাপক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
KAOWL & CNPN Golden Pen Award আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও কবিতায় উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়। কোরিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ওয়ার্ল্ড লিটারেচার (কেএওডব্লিউএল) এবং কালচার অ্যান্ড পিপল নিউজ পেপার (সিএনপিএন) যৌথভাবে এই আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করে থাকে। পুরস্কারটির জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান কবি ড. কাং বাইঅং-চিঅল স্বাক্ষরিত একটি পত্রে মুম রহমানকে (মুহম্মদ মজিবুর রহমান) এই সম্মাননার ১৮তম প্রাপক হিসেবে নির্বাচনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী ১০ আগস্ট সিএনপিএন নিউজের মাধ্যমে পুরস্কার প্রাপ্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটি প্রকাশ করা হবে।
বাংলা ভাষার কোনো কবির ক্ষেত্রে কোরিয়ার কোনো আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কার অর্জনের এটিই প্রথম ঘটনা। এ কারণে মুম রহমানের এই অর্জন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এর মধ্য দিয়ে বাংলা কবিতা ও বাংলাদেশের সাহিত্যচর্চা আন্তর্জাতিক সাহিত্যাঙ্গনে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করল।
মুম রহমানকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত তুরস্কের কবি তারিক গুনারসেল। পুরস্কার কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক চিঠিতে মনোনয়ন এবং মুম রহমানের সাহিত্যিক অর্জনের প্রতি কবি তারিক গুনারসেলের আস্থা ও সমর্থনের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
KAOWL & CNPN Golden Pen Award-এর পূর্ববর্তী প্রাপকদের তালিকায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান কবি ও সাহিত্যিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন মালয়েশিয়ার মাওয়ার মারজুকি, মিশরের জর্জ ওনসে, আলবেনিয়া/ইতালির ইরমা কুর্তি , উত্তর মেসিডোনিয়ার কাতিকা কুলাভকোভা, সার্বিয়ার দুসান গজকভ, ইতালির লিডিয়া চিয়ারেল্লি, কোরিয়ার সিইয়ং ডং, বেলজিয়াম/স্পেনের জারমাইন দ্রুজিনব্রুদত, রোমানিয়ার এলিনা লিলিয়ানা পোপেস্কু, পোল্যান্ডের কাজিমিয়ার্জ বুরনাতt, ভারতের জারনাইল এস আনন্দ, তুরস্কের তারিক গুনারসেল, চীনের কাও শুই, গ্রিসের দিমিতরিস পি ক্রানিওতিস , সার্বিয়ার মাজা হারমান-সেকুলিচ এবং কিরগিজস্তানের রহিম কারিমল।
এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সম্পর্কে মুম রহমান বলেন, “এই সম্মান আমার জন্য গভীর আনন্দ ও একই সঙ্গে বড় দায়িত্বের। আমি এটিকে শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখি না; বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিনিধিত্ব করার একটি সুযোগ হিসেবেও দেখি। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার কবিদের সঙ্গে বাংলা কবিতার যে চিরন্তন সংলাপ, এই স্বীকৃতি সেই সংলাপকে আরও গভীর করবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।”
মুম রহমান আরো বলেন, “কোরিয়া থেকে বাংলা ভাষার কোনো কবির জন্য এই প্রথম আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কার অর্জনের ঘটনা হিসেবে এটি আমার কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বাংলা ভাষার সাহিত্য যে বিশ্বসাহিত্যের বৃহত্তর পরিসরের অংশ, এই স্বীকৃতি তারই একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য।”
